বরমী বাজার
বরমী বাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যঃ
বরমী ইউনিয়নের বরমী নামকরণের পিছনে রয়েছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। বাংলার স্বাধীন নবাব ঈসা খাঁর এক যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল বার্মা, অর্থাৎ বর্তমান মায়ানমার সাথে। বার্মা সৈন্যদল ঈসা খাঁর রাজধানী এগার সিন্দুর আক্রমনের উদ্দেশ্যে বর্তমান বরমী গ্রামে অবস্থান নেয়। তখন এই এলাকায় গভীর বন ছিল। মানুষ বার্মা বাহিনীর অবস্থান উল্লেখকালে এই জায়গাকে বার্মায়া বলে চিহ্নিত করত। পরবর্তীতে বার্মায়া শব্দটিই এ অঞ্চলের জনসাধারণের আঞ্চলিকতায় বরমী নামক স্থানে রূপান্তরিত হয়। পাকিস্তান আমলে বরমী ইউনিয়নে পরিনত হয়। এখানে প্রাচীন কাল থেকে একটি বড় বাজার আছে এবং এই বাজারকে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্রাম্য বাজার বলে ধারণা করা হয়।
১৫৯০ সালে শীতলক্ষা নদীর তীরে বরমী বাজারের সৃষ্টি হয়। তখন থেকে আরম্ব করিয়া বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন পন্য দ্রব্যের জন্য একটি বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিশেষ করিয়া ধান, পাট, কাঠাল ও গজারী কাঠের জন্য অন্যতম বাণীজ্য কেন্দ্র। এখানে প্রায় ৩০টি উন্নতমানের চাউলের কারখানা আছে। এখানে বর্তমান পাটমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ বরমী অটো রাইস মিল নামে একটি বৃহৎ চাউলের কারখানা নির্মাণ করেন। কথিত আছে যে, টোকনগরে বাংলার রাজধানী থাকার সময়ে বর্মদেশীয় (মগ) জলদস্যু টোকনগর লুট করার জন্য শীতলক্ষ্যা নদী বহিয়া অগ্রসর হইতেছিল। মোগল বাহিনী তাহাদের গতিরোধ ও বন্দী করে। তাহাদিগকে যেখানে আটক করিয়া রাখিয়াছিল, সেই স্থানের নাম বর্মী ও বাজারের নাম হয় বরমী।